NGO Loan

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি ২০২৬ (সম্পূর্ণ আপডেট)

আপনি কি বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন দেখছেন? অথবা আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহজ শর্তে ঋণ খুঁজছেন? তাহলে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি আপনার জন্য একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তাই দেয় না বরং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৪ জেলায় তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত, যার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নারী আজ স্বপ্ন দেখতে শিখেছেন।

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি মূলত একটি সহজ, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ঋণপ্রার্থীদের প্রথমে একটি গ্রুপ গঠন করতে হয় যেখানে ৫ থেকে ১০ জন নারী সদস্য থাকেন। এই গ্রুপভিত্তিক পদ্ধতি পারস্পরিক দায়বদ্ধতা তৈরি করে ঋণ পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। বর্তমানে টিএমএসএসের ঋণ পরিশোধের হার ৯৬ শতাংশের উপরে যা তাদের কার্যক্রমের সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এই লেখায় আমরা টিএমএসএসের লোনের ধরন, আবেদনের নিয়ম, যোগ্যতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

টিএমএসএস এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ, যা টিএমএসএস নামে পরিচিত, ১৯৬৪ সালে বগুড়ার ঠেঙ্গামারা গ্রামে যাত্রা শুরু করে। তবে ১৯৮০ সালে প্রফেসর হোসনে আরা বেগমের নেতৃত্বে এটি নারী-কেন্দ্রিক একটি সংস্থা হিসেবে পুনর্গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন, নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়ন। বর্তমানে টিএমএসএসের ৯৩৭টি শাখা, ২০৩টি এরিয়া অফিস ও ৫১টি জোনাল অফিস রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৮ লক্ষ সদস্যকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

টিএমএসএস শুধু ঋণ প্রদানই করে না বরং তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মাইক্রোফাইন্যান্সের সমন্বয়ে গঠিত এইচইএম (HEM) মডেল অনুসরণ করে। এই মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা একই সাথে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি এতটাই জনপ্রিয় যে বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোনের প্রকারভেদ

টিএমএসএস বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণ প্রদান করে থাকে। নিচে প্রধান কয়েকটি লোনের ধরন নিয়ে আলোচনা করা হলো:

কুয়েত গুডউইল ফান্ড (কেজিএফ)

এই তহবিলটি মূলত কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের জন্য প্রদান করা হয়। কেজিএফের আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা খুব সহজেই ঋণ পেয়ে থাকেন। এই লোনের মাধ্যমে তারা উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক কিনতে পারেন, যা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

লিফট প্রোগ্রাম

লিফট প্রোগ্রামটি টার্কি ও কোয়েল পাখি পালনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাজ করে। এই প্রোগ্রামের আওতায় প্রশিক্ষণ ও ঋণ উভয়ই প্রদান করা হয়। গ্রামীণ নারীরা খুব অল্প পুঁজি দিয়ে এই খাতে ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং অল্প সময়েই লাভবান হতে পারেন।

লিজ ফাইন্যান্সিং

যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়তে চান, তাদের জন্য লিজ ফাইন্যান্সিং একটি চমৎকার সুযোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সহায়তা প্রদান করা হয়। যেমন- সেলাই মেশিন, মুদি দোকানের তাক, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।

স্টার্ট-আপ ক্যাপিটাল লোন

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্ট-আপ ক্যাপিটাল লোন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান কিন্তু পর্যাপ্ত মূলধন নেই, তারা এই লোনের মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। এই লোনের সুদের হার তুলনামূলক কম এবং পরিশোধের সময়সীমা নমনীয়।

সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রোজেক্ট

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উদ্যোগ গড়ে তুলতে এই প্রকল্প থেকে ঋণ প্রদান করা হয়। যেমন- জৈব সার উৎপাদন, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন, কলা চাষ ইত্যাদি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে টিএমএসএস শুধু নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়নই করে না, পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে।

মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট (এমডিপি)

যারা ক্লাস্টারভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য এমডিপি একটি বিশেষ উদ্যোগ। এখানে একই এলাকার বা একই পেশার নারীরা একত্রিত হয়ে গ্রুপভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যেমন- হাতের কাজের পণ্য তৈরি, মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদি।

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোনের পরিমাণ ও মেয়াদ

টিএমএসএস ঋণের পরিমাণ মূলত আবেদনকারীর চাহিদা ও ব্যবসার ধরণের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। সাধারণত ক্ষুদ্র ঋণ ৫,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বিশেষ প্রকল্পের ক্ষেত্রে, যেমন লিজ ফাইন্যান্সিং বা এমডিপির আওতায়, ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ঋণের মেয়াদ সাধারণত ৬ মাস থেকে শুরু করে ১৮ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। কৃষিভিত্তিক ঋণের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়, কারণ ফসল ফলাতে সময় লাগে। এছাড়াও পূর্বের ঋণ পরিশোধের রেকর্ড ভালো থাকলে পরবর্তী ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এই ধাপে ধাপে বড় ঋণ পাওয়ার সুবিধাটি সদস্যদের ব্যবসা সম্প্রসারণে উৎসাহিত করে।

আরও জানতে পারেনঃ নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি (নুসা) লোন ২০২৬

লোন পাওয়ার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি অনুযায়ী ঋণ পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। নিচে এই শর্তগুলো তুলে ধরা হলো:

যোগ্যতা

১. আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২. বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
৩. দরিদ্র বা অতি দরিদ্র নারীরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।
৪. একটি গ্রুপের সদস্য হতে হবে, যেখানে ৫-১০ জন নারী থাকেন।
৫. নিয়মিত সঞ্চাকারী হতে হবে।
৬. পূর্ববর্তী কোনো ঋণ খেলাপি হওয়া যাবে না।
৭. মৌলিক সাক্ষরতা ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
২. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৩. ঠিকানা প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিল বা বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র।
৪. গ্রুপ সদস্যপদের সনদ।
৫. ব্যবসা পরিকল্পনা (যদি থাকে)।
৬. পূর্বের আয়ের প্রমাণ (যদি থাকে)।

লোন আবেদনের ধাপসমূহ

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি খুবই সহজ ও স্বচ্ছ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজেই ঋণ পাওয়া সম্ভব:

ধাপ ১: স্থানীয় শাখায় যোগাযোগ

প্রথমে আপনার এলাকার নিকটতম টিএমএসএস শাখায় গিয়ে লোন অফিসারের সাথে দেখা করুন। সেখানে তারা আপনাকে লোনের বিভিন্ন ধরন ও শর্তাবলী সম্পর্কে জানাবে।

ধাপ ২: গ্রুপ গঠন

যদি আপনি ইতোমধ্যে কোনো গ্রুপের সদস্য না হন, তাহলে ৫-১০ জন নারী মিলে একটি গ্রুপ গঠন করুন। এই গ্রুপের সদস্যরা একে অপরের ঋণের দায়িত্বশীল থাকবেন।

ধাপ ৩: আবেদনপত্র জমা

গ্রুপ গঠনের পর আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন। আবেদনপত্রে আপনার ব্যবসার ধরন, প্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ ও পরিশোধের সক্ষমতা উল্লেখ করতে হবে।

ধাপ ৪: যাচাই-বাছাই

আবেদন জমা দেওয়ার পর টিএমএসএসের কর্মকর্তারা আপনার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভিজিট করবেন। তারা আপনার আর্থিক অবস্থা, ব্যবসার সম্ভাবনা ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করবেন।

ধাপ ৫: প্রশিক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রে ঋণ দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। যেমন- যদি আপনি টার্কি চাষের জন্য ঋণ নেন, তাহলে কিভাবে টার্কি পালন করতে হয় তার একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ধাপ ৬: ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ

যাচাই-বাছাই ও প্রশিক্ষণ শেষে আপনার ঋণ অনুমোদিত হলে তা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা সরাসরি নগদ প্রদান করা হয়। সাধারণত আবেদনের ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ঋণ হাতে পেয়ে যাবেন।

সুদের হার ও কিস্তি পরিশোধ পদ্ধতি

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোনের সুদের হার বাজারের তুলনায় কম। সাধারণত ১২.৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত সুদ নেওয়া হয়, যা ঋণের ধরণ ও মেয়াদের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। নিচে একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

ঋণের পরিমাণমেয়াদকালমোট পরিশোধযোগ্য (প্রায়)মাসিক কিস্তি (প্রায়)
১০,০০০ টাকা৬ মাস১০,৮০০ টাকা১,৮০০ টাকা
২০,০০০ টাকা১ বছর২২,২০০ টাকা১,৮৫০ টাকা
৫০,০০০ টাকা১৮ মাস৫৭,৬০০ টাকা৩,২০০ টাকা

কিস্তি সাধারণত সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হয়। সাপ্তাহিক কিস্তি গ্রামীণ নারীদের জন্য সহজ হয়, কারণ তারা তাদের ছোট ছোট ব্যবসা থেকে নিয়মিত আয় করে থাকেন। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে পরবর্তী ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হয় না এবং ঋণের পরিমাণও বাড়ানোর সুযোগ থাকে।

লোনের সুবিধা ও অসুবিধা

যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো টিএমএসএসেরও কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো:

সুবিধাসমূহ

১. সহজ প্রক্রিয়া ও দ্রুত অনুমোদন।
২. নারী-কেন্দ্রিক ও গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা।
৩. কম সুদের হার ও নমনীয় কিস্তি ব্যবস্থা।
৪. ঋণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান।
৫. গ্রুপভিত্তিক ঋণ হওয়ায় পারস্পরিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।
৬. দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই শাখা রয়েছে।
৭. পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের জন্য বিশেষ ঋণ প্রকল্প রয়েছে।

অসুবিধাসমূহ

১. প্রথমবার ঋণ নিলে পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়।
২. গ্রুপ সদস্যপদ বাধ্যতামূলক, যা কারো কারো জন্য অসুবিধাজনক হতে পারে।
৩. নিয়মিত সভায় উপস্থিত থাকতে হয়।
৪. কিস্তি নিয়মিত না দিলে জরিমানা দিতে হয়।
৫. যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কিছু ক্ষেত্রে সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

টিএমএসএস বনাম অন্যান্য এনজিও

বাংলাদেশে ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংকসহ আরও অনেক এনজিও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিচে টিএমএসএসের সাথে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তুলনা দেওয়া হলো:

প্রতিষ্ঠানসুদের হারঋণের পরিমাণমেয়াদকালবিশেষ বৈশিষ্ট্য
টিএমএসএস১২.৫-১৫%৫,০০০-৫০,০০০৬-১৮ মাসHEM মডেল, নারী ফোকাস
ব্র্যাক১৮-২২%১০,০০০-৩০,০০০১-৩ বছরশিক্ষা কার্যক্রম
আশা১৫-২০%১৫,০০০-২০,০০০১-৩ বছরবিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক
গ্রামীণ ব্যাংক২০%৫,০০০-৫০,০০০১-৩ বছরগ্রুপভিত্তিক ঋণ

টিএমএসএসের কম সুদের হার ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা সেবা একে অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করেছে।

সাফল্যের গল্প: ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোনের মাধ্যমে বদলে যাওয়া জীবন

টিএমএসএসের ঋণ অনেক নারীর জীবন বদলে দিয়েছে। এমনই কিছু গল্প নিচে দেওয়া হলো:

ফাতেমা বেগমের গল্প

বগুড়ার ফাতেমা বেগম ছিলেন একজন দিনমজুর। স্বামীর অসুস্থতার কারণে সংসারে অভাব লেগেই থাকত। ২০২২ সালে তিনি টিএমএসএস থেকে ১০,০০০ টাকা কুয়েত গুডউইল ফান্ডের ঋণ নিয়ে কলা চাষ শুরু করেন। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি ১০ বিঘা জমিতে কলা চাষ করছেন। এখন মাসে তার আয় প্রায় ১৫,০০০ টাকা। তিনি এখন তার এলাকার গ্রুপ লিডার হিসেবে কাজ করছেন এবং অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছেন।

রহিমা খাতুনের গল্প

রংপুরের রহিমা খাতুন লিফট প্রোগ্রামের আওতায় টার্কি পালন শুরু করেন। প্রথমে ৫,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে ১০টি টার্কি পাখি কিনেছিলেন। এখন তার খামারে ১০০টির বেশি টার্কি রয়েছে। এই আয় দিয়ে তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন এবং সংসারের অভাব দূর করেছেন। রহিমা বলেন, “টিএমএসএসের ঋণ না পেলে আমি কখনো এতদূর আসতে পারতাম না।”

যোগাযোগের তথ্য

যদি আপনি ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি সম্পর্কে আরও জানতে চান বা ঋণের জন্য আবেদন করতে চান, তাহলে নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন:

প্রধান কার্যালয়: টিএমএসএস হেড অফিস, বগুড়া সদর, বগুড়া।
ইমেইল: tmss.info@tmss-bd.org
ওয়েবসাইট: www.tmss-bd.org
ফোন: স্থানীয় শাখা অফিসে যোগাযোগ করুন।

কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

টিএমএসএস থেকে ঋণ নিতে কত দিন সময় লাগে?

সাধারণত আবেদনের ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ঋণ হাতে পেয়ে যান।

পুরুষরা কি টিএমএসএস থেকে ঋণ পেতে পারেন?

টিএমএসএস মূলত নারী-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। তবে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হিসেবে পুরুষরাও কিছু বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ঋণ পেতে পারেন।

ঋণের কিস্তি কত দিন পর পর দিতে হয়?

সাধারণত সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তি দিতে হয়। আপনি আপনার সুবিধামত সময় বেছে নিতে পারেন।

আগের ঋণ পরিশোধ না করেই কি নতুন ঋণ নেওয়া যায়?

না, আগের ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ না করে নতুন ঋণ নেওয়া যায় না। তবে নিয়মিত কিস্তি দিলে মধ্যবর্তী সময়ে আরেকটি ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

টিএমএসএস কি শহরাঞ্চলেও ঋণ দেয়?

হ্যাঁ, টিএমএসএস শহরাঞ্চলেও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। তবে তাদের মূল ফোকাস গ্রামীণ এলাকা।

শেষ কথা

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ লোন পদ্ধতি বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নারী আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন ও নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন। কম সুদের হার, সহজ শর্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ টিএমএসএসকে অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করেছে। আপনি যদি একজন নারী হয়ে থাকেন ও নিজের একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান ? তাহলে টিএমএসএস আপনার জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। শুধু একটি ছোট পদক্ষেপই পারে আপনার জীবন বদলে দিতে। আজই আপনার এলাকার টিএমএসএস শাখায় যোগাযোগ করুন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button